পারমিতা রাহা হালদারের লেখা

দৃষ্টি 
   
পারমিতা রাহা হালদার 

অচিন দেশের রাজপুত্র রূপ ঘোড়ায় চেপে চলেছে রূপকথার দেশে। চারিদিকে গাছে ঝুলছে সোনা রূপোর ফল। হীরে জহরতে সাজানো শহর। হাত বাড়ালেই জাদুর মতো হাতে চলে আসছে  খাবার,  যা চাইছে তাই। 

এবার উঠে পড়ো দাদুভাই অনেক দেরী হয়ে গেল স্কুলে যেতে হবে এবার তৈরী হয়ে  নাও ঠাম্মি বলল।

যা আমার এত সুন্দর স্বপ্নটাই তো ভেঙে গেলো কেন ঘুম ভাঙিয়ে দিলে ঠাম্মি ? রূপ ঠাম্মি কে জড়িয়ে ধরে আবদারে বলে উঠল।

মাত্র দুমাস বয়সে একটা পথ দুর্ঘটনায় মা বাবা কে হারায় রূপ । অবলম্বন বলতে একমাত্র ঠাম্মি । রূপের পুরো পৃথিবীটা ঠাম্মি  কে ঘিরেই। দুর্ঘটনা অন্ধত্ব এনে দিয়েছিল  রূপের । ঠাম্মির হাত ধরে জীবনে চলা। ব্লাইন্ড স্কুলে ভর্তি হয় রূপ। আজ রূপ আট বছরের। 

ঠাম্মির মুখে রূপকথার গল্প শুনে কিছু চরিত্র কল্পনা করে নিয়েছিল ছোট্ট শিশুটি ।  কল্পনায় ঠাম্মিকেই রূপকথার জাদুকরী ভাবে রূপ। 

রূপ  ব্লাইড স্কুলে পড়াশোনা করলেও অন্যান্য বাচ্চাদের থেকে অনেক বেশী বুদ্ধিমান ও সাবলম্বী।

রূপের আবদারেই ঠাম্মি রূপকথার গল্প বলে চলছিল।  হঠাৎ  ঠাম্মির বুকে যন্ত্রণা  দেখে  রূপ পাড়ার কিছু ছেলে কে ডেকে আনলো।
নিয়ে যাওয়া হলো হসপিটাল। 

ডাক্তার রূপ কে বল্লো তোমার ঠাম্মি  আলো ফিরিয়ে দেবে তোমাকে কালই,
সময় মতো অপারেশনে হলো, চোখের ব্যান্ডেজ খোলার সময় ডাক্তার বল্লো, রূপবাবু তাহলে কাকে প্রথম দেখতে চাও?

রূপের জীবনে  ঠাম্মি রূপকথার জাদুকরী, ঠাম্মি তো পারে যাদু দিয়ে সব কিছুই ঠিক করে দিতে, ছোট্ট রূপ এই বিশাল পৃথিবীতে ঠাম্মি ছাড়া কিছুই বোঝেনা । তাই প্রথমেই  ঠাম্মিকে দেখতে চাইলো রূপ । 
চোখ খোলার পর চারিদিক আলো,  ঝাপসা চোখের প্রথম দৃষ্টি , এসে দাঁড়ল ঠাম্মির একটা ছবি। ছোট্ট রূপের প্রশ্ন ছিল রূপকথার  মানুষেরা কি দেখতে তাহলে ছবির মতোই হয়?


Comments

Popular posts from this blog

পিয়ালি দাসের লেখা

বীরেন্দ্র নাথ মহাপাত্রের ধারাবাহিক উপন্যাস