Posts

দেবশ্রী ভট্টাচার্যের লেখা ধারাবাহিক উপন্যাসের তৃতীয় পর্ব

Image
৩) - তোমার প্ল্যানটা কী? কতদিনের ছুটি ছিল! - এই তো সাতদিনের ছুটি নিয়ে এসেছিলাম , তার মধ্যে একটা দিন প্রায় শেষের পথে । - ও । আবার চুপ করে গেল প্রিয়া। মেয়েটার কথা বলার ধরনটাই এমন। বড্ড আস্তে আস্তে কথা বলে , যেন কত কী ভাবে । অনেক ভেবে চিন্তে তারপর প্রশ্ন করে , উত্তর দেয়ও সেইভাবে। যেন মেপে মেপে শব্দগুলোকে খরচ করে। - কালকে কী করছ? - কিছু না , একবার স্কুলে যাবো, স্যারেদের সাথে দেখা করব ! তারপর ফ্রি ! এরপর প্রিয়া কী ব্লতে পারে ! অর সাথে জেতে বলবে কোথাও ! সিনেমা দেখা কিংবা শপিং নিদেন পক্ষে বাড়িতে ইনভাইট করবে ! প্রিয়া কিছুই বলল না, অদ্ভুত তো ! কথা হারিয়ে গেল নাকি ! নাকি সঞ্জীবেরই ব্লা উচিত ! সত্যি তো এসব কথা মেয়েরা কেউ বলে নাকি! সঞ্জীবেরই তো জিজ্ঞাসা করা উচিত ! - কাল যাবে কোথাও! - কোথায় যাবো! - যেখানে বলবে , সিনেমা দেখাতে পারি , শপিঙ-এ যেতে পারি কিংবা অন্য কোথাও - ধ্যুস ওসব ভালো লাগে না, লাইব্রেরি যাওয়ার আছে! যাবে আমার সঙ্গে! বোঝো কাণ্ড ! এমন একটা জায়গার নাম করল, যেখানে ঢোকার মুখেই বড় বড় কালো অক্ষরে লেখা থাকবে SILENCE - অ্যাঁ লাইব্রেরি ! - কেন লাইব্রেরি পছন্দ নয় বুঝি! এতক্...

পারমিতা রাহা হালদারের লেখা

Image
দৃষ্টি      পারমিতা রাহা হালদার  অচিন দেশের রাজপুত্র রূপ ঘোড়ায় চেপে চলেছে রূপকথার দেশে। চারিদিকে গাছে ঝুলছে সোনা রূপোর ফল। হীরে জহরতে সাজানো শহর। হাত বাড়ালেই জাদুর মতো হাতে চলে আসছে  খাবার,  যা চাইছে তাই।  এবার উঠে পড়ো দাদুভাই অনেক দেরী হয়ে গেল স্কুলে যেতে হবে এবার তৈরী হয়ে  নাও ঠাম্মি বলল। যা আমার এত সুন্দর স্বপ্নটাই তো ভেঙে গেলো কেন ঘুম ভাঙিয়ে দিলে ঠাম্মি ? রূপ ঠাম্মি কে জড়িয়ে ধরে আবদারে বলে উঠল। মাত্র দুমাস বয়সে একটা পথ দুর্ঘটনায় মা বাবা কে হারায় রূপ । অবলম্বন বলতে একমাত্র ঠাম্মি । রূপের পুরো পৃথিবীটা ঠাম্মি  কে ঘিরেই। দুর্ঘটনা অন্ধত্ব এনে দিয়েছিল  রূপের । ঠাম্মির হাত ধরে জীবনে চলা। ব্লাইন্ড স্কুলে ভর্তি হয় রূপ। আজ রূপ আট বছরের।  ঠাম্মির মুখে রূপকথার গল্প শুনে কিছু চরিত্র কল্পনা করে নিয়েছিল ছোট্ট শিশুটি ।  কল্পনায় ঠাম্মিকেই রূপকথার জাদুকরী ভাবে রূপ।  রূপ  ব্লাইড স্কুলে পড়াশোনা করলেও অন্যান্য বাচ্চাদের থেকে অনেক বেশী বুদ্ধিমান ও সাবলম্বী। রূপের আবদারেই ঠাম্মি রূপকথার গল্প বলে চ...

রাণা চ্যাটার্জীর অসাধারণ একটি লেখা

Image
কাল্পনিক সংলাপ -নেতাজির সঙ্গে হঠাৎ দেখা কলমে:রাণা চ্যাটার্জ **-আরে কি আশ্চর্য আপনি এই ভারত মাতার শ্রেষ্ঠ সন্তান সুভাষ বোস এভাবে রাস্তায় জনগণের ভিড়ে? সুভাষ- আশ্চর্যের কিছু নেই সামান্য দেশসেবক হয়ে যদি  দূরত্ব তৈরি করে এড়িয়ে থাকি জনগণের পালস বুঝবো কি করে ।তাই আমি প্রায়শই মিশে যাই ভিড়ে ,এর মধ্যেই খুঁজে পাই দেশ সেবার রসদ,মানুষ ঠিক কি চাইছে সেটার খোঁজ। ** -বাহ দারুন বললেন তো, এত সাধারন পোষাকে এত বড় নেতা আপনাকে চিনতেই অনেকে পারছে না..কোনো আক্ষেপ নেই? সুভাষ -আমার ভারত বর্ষ নিম্ন-মধ্যবিত্ত হতদরিদ্রদের জননী  তাই তার সন্তানের পোষাক এমন হওয়াই বাঞ্ছনীয় । আমি বেঁচে থাকতেই অদৃশ্য পর্দা তাতে নাই বা চিনতে পারলো সবাই ক্ষতি কি।মনের মধ্যে এমন ঠাঁই না দেওয়াই শ্রেয় কে কি ভাবলো,কার কাছে আমার অবস্থান কি,নিজের কাজ টুকু ভালো করে করে চললে মনের শান্তি,সমাজেরও। **-এটা আমাদের লজ্জা  যে ভারতবাসী নেতাজী নেতাজী করে এত মাথা ঝোঁকায়,সম্মান করে তাকে কিনা চিনতেই পারছে না আর আদর্শও জলাঞ্জলি,তবে কি সবটাই দেখন দারি? সুভাষ- মা তো মা'ই হয়-পরিবেশ পরিস্থিতি যদি সন্তানদের মধ্যে আ...

বীরেন্দ্র নাথ মহাপাত্রের ধারাবাহিক উপন্যাস

Image
       শপথ নিলাম (চতুর্থ পর্ব )          বীরেন্দ্র নাথ মহাপাত্র তখন গুরুজী দু-হাত তুলে আমাকে আশীর্বাদ করলেন এবং বললেন,' জান নমিতা, কে বলে ভগবান নেই, এই আমাদের দুর্দিনে ভগবান হেমাদ্রিকে ত্রাতা হিসেবে বাঁচার যন্ত্রের রসদ দিয়ে এবং তার নিজের উপার্জিত পয়সা আমাদেরকে স্ব-ইচ্ছায় দান করে, সে আমাদেরকে কোন জন্মের এক ছেলের পুন্য কাজ করে গেল । কামনা করি ভগবান তার জীবন আরও মধুময় করে তুলুন । এসো, মোরা দুজনে মিলে মঙ্গলময়ের কাছে কায়মন বাক্যে প্রার্থনা জানাই ।                 এদিকে অনেক রাত হওয়ার জন্য আর কথা না বাড়িয়ে রাতের খাবার  খেয়ে সবাই ঘুমিয়ে পড়লাম । পরের দিন সকালে গুরুজী এবং গুরুজীর স্ত্রীকে প্রনাম করে এবং মাসে মাসে এসে খবর নিয়ে যাব এই সান্ত্বনা বাক্য দিয়ে ওনাদের বাড়ি ত্যাগ করলাম । বাস ধরে খড়্গপুর স্টেশন, পরে সেই বাসা বাড়িতে ফিরে এলাম । বাসায় ফিরে বাড়িওয়ালা বৌদির কাছ থেকে চাবি ছোড়া দেওয়ার সময় আমাকে যে কথাটি বললেন সেটাকে একজন  ভাড়াটিয়ার পক্ষে কোন মতে মঙ্গল জনক নয়।  তিনি বললেন, 'জান ...

সুমিতা চৌধুরীর ছোটো গল্প

Image
ভালো- বাসা ( ছোটো গল্প)            সুমিতা চৌধুরী           Anish Roy is with Priya Dey    একটা ঘর এলোমেলো            একটা ঘর গোছানো     প্রেমকে গেম ভেবে  ওড়াতে চেয়ে      আজ আমি ঝরা পাতা, অবসন্ন  সত্যিই এলোমেলো ধোঁয়াশা ঘরে নিকোটিনের সঙ্গে সহবাসে অভ্যস্ত অণীশ বারবার ফোনটা চেক করে চলেছে ইনবক্স কোনো ম্যাসাজ আসার অধীর অপেক্ষায় । একটা বেলা এভাবে পাগলের মতো কাটার পর সন্ধ্যায় ম্যাসাজ ঢোকার টুংটাং আওয়াজে বুকভরা পিপাসা নিয়ে ঠিক যেন চাতকের মতোই সঙ্গে সঙ্গে ইনবক্সে অন হলো অণীশ। হ্যাঁ তার বহু প্রত্যাখিত প্রিয়ারই ম্যাসাজ । তবে খুব রূঢ়। কিন্তু  এ যেন অণীশের জানাই ছিল । তাই ঐ ম্যাসাজই তার মনে ঐ অবস্থায় আশা জাগালো। প্রিয়া:- এসব কি? আমায় tag করেছো কেন? নিজে যা খুশি লেখ, কর,আমার কিছু যায় আসে না । কিন্তু আমায় tag করার অধিকার তোমায় কে দিয়েছে? জানো না আমি এসব পছন্দ করি না? অবশ্য জানবেই বা কি করে? জানার জন্য মন চাই, আর তোমার  তো আবার ...

পিয়ালি দাসের লেখা

Image
স্বপ্নের ভালোবাসা পিয়ালি দাস  আমি তো তোমার চিরকালের অপচ্ছন্দের প্রাপ্তি,তাই সাহস  হয় না  সামনা সামনি  চোখ তুলে  দু- চোখ ভরে তোমায় দেখার, লোকচক্ষুর আড়ালে যেখানে শুধুই বিচরণ করবার অধিকার আমার ,সেই স্বপ্নে, সেখানে তুমি শুধুই আমার,সেখানে তোমার ভালোবাসা পাওয়ার একমাত্র দাবিদার আমি,শুধু কি তাই কতদিন কতবার তোমাকে স্পর্শ করেছি সেই মায়াবী ক্ষণে,রঙিন মায়াজালে  চোখে চোখ রেখে  হয়েছি বিভোর, দুর্বার আলিঙ্গনে পেয়েছি উষ্ণতা,স্পর্শ করেছি ঠোঁটের কোনের দুষ্ট হাসি,আঁচল দিয়ে করেছি বরন, উজাড় করে দিয়েছি মনের ভালোবাসা,হয়েছি স্বপ্নের রানী,কিন্তু তা তো ক্ষনিকের,বাস্তবে অস্তিত্বহীন সেই ভালোবাসার সুখ,স্বপ্নের গহন জালে শৃঙ্খল বদ্ধ হয়ে মরে গেছে সেই ভালোবাসা,চোখের জল নিভিয়ে দিয়েছে তার উষ্ণতা,আর ঘোর বাস্তব দিয়েছে শুধুই অবজ্ঞা ও সীমাহীন অবহেলা। তোমাকে হারিয়ে চোখেতে হারিয়েছি তোমাকে, সে কথা সত্য- তোমাকে হারিয়ে হারিয়েছি আরো অনেক কিছু- হারিয়েছি সেই ভোরের শিশিরে ভেজা ফুলের গন্ধের মাদকতা- হারিয়েছি মাদলের সনে মেঠো সুরের মিলনের উন্মাদনা- হারিয়েছি সেই গাছের ডালে বসা কোকি...

সৌভিক পাল চৌধুরীর লেখা তিনটি কবিতা

Image
আমি জিহাদী মানুষের জন্মের সময় খুঁজে পেয়েছি এক নিস্পাপ বালক । ঈশ্বর সর্বাপেক্ষা নিসংঙ্গ, উন্মাদ শুধু পরবর্তী মানুষের জন্য বলে যাক এই মৃত্যু আকস্মিক নয় । এক মুহুর্ত আলো জ্বালে আর নিভে যায় পরক্ষনেই সিরিয়ায় বালকেরা কি খেলা করে ? ওরা মৃতদের আদলে শুয়ে চক দিয়ে দাগ কেটে দেয় গন্ডি তারপর হেসে লুটোপুটি, ঠিক কতভাবে একটা মানুষ মরতে পারে ? এই শৈশব, এই কৈশোর এই সদ্য কিশোরীর আতঙ্ক, আমার শিরদাঁড়ার আনাচে কানাচে ঘাটি গাড়ে ছড়ায় আমার ধুলিসাৎ তৃতীয় প্রজন্ম । কোনো জন্মদিনে, বাড়ি ভর্তি মানুষের ভিড়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা ক্ষতচিহ্ন বেকারির কেক মেখে নিও । জন্মদিন মুবারক হো !