রাণা চ্যাটার্জীর অসাধারণ একটি লেখা



কাল্পনিক সংলাপ
-নেতাজির সঙ্গে হঠাৎ দেখা
কলমে:রাণা চ্যাটার্জ


**-আরে কি আশ্চর্য আপনি এই ভারত মাতার শ্রেষ্ঠ সন্তান সুভাষ বোস এভাবে রাস্তায় জনগণের ভিড়ে?
সুভাষ- আশ্চর্যের কিছু নেই সামান্য দেশসেবক হয়ে যদি  দূরত্ব তৈরি করে এড়িয়ে থাকি জনগণের পালস বুঝবো কি করে ।তাই আমি প্রায়শই মিশে যাই ভিড়ে ,এর মধ্যেই খুঁজে পাই দেশ সেবার রসদ,মানুষ ঠিক কি চাইছে সেটার খোঁজ।
** -বাহ দারুন বললেন তো, এত সাধারন পোষাকে এত বড় নেতা আপনাকে চিনতেই অনেকে পারছে না..কোনো আক্ষেপ নেই?
সুভাষ -আমার ভারত বর্ষ নিম্ন-মধ্যবিত্ত হতদরিদ্রদের জননী  তাই তার সন্তানের পোষাক এমন হওয়াই বাঞ্ছনীয় । আমি বেঁচে থাকতেই অদৃশ্য পর্দা তাতে নাই বা চিনতে পারলো সবাই ক্ষতি কি।মনের মধ্যে এমন ঠাঁই না দেওয়াই শ্রেয় কে কি ভাবলো,কার কাছে আমার অবস্থান কি,নিজের কাজ টুকু ভালো করে করে চললে মনের শান্তি,সমাজেরও।
**-এটা আমাদের লজ্জা  যে ভারতবাসী নেতাজী নেতাজী করে এত মাথা ঝোঁকায়,সম্মান করে তাকে কিনা চিনতেই পারছে না আর আদর্শও জলাঞ্জলি,তবে কি সবটাই দেখন দারি?
সুভাষ- মা তো মা'ই হয়-পরিবেশ পরিস্থিতি যদি সন্তানদের মধ্যে আনে বিভাজন,স্বার্থপরতার পাঁচিল আর বাসা বাঁধে লোভ দুর্নীতি কি করে সামলাবেন মা একার বলে।তাই নানা সমস্যায় জর্জরিত আমরা নামছি আরো নিচে,তলিয়ে যাচ্ছি পাঁকে। ক্রমশ নিজেদের ভুলে অন্যদের সন্দেহ করে নিজেদের গুণাবলী কে ছোট করছি।
**এতো টা বিরক্ত করা যদিও উচিত নয় আপনাকে,জানতে ইচ্ছে করে ধর্ম নিয়ে এই যে হুঙ্কার,বিভেদ,ভারত কি হিন্দু রাষ্ট্র হলেই হৃৎ গৌরব সব ফেরাতে পারবে বলে মনে হয়।
সুভাষ- ধর্ম পরে আগে মানবতা।আমরা যদি আগেই সরিয়ে দেই মানুষকে তার ধর্ম দেখে তাহলে কি করে ঐক্য আসবে! আজাদ হিন্দ বাহিনীতে সব ধর্মের মানুষ ছিল তাদের ভূমিকা ছিল অনস্বীকার্য কারণ তাদের মধ্যে একটাই ভাবনা ছিল যে তারা ভারতের হয়ে লড়ছে তাছাড়া রক্তের রং তো লাল সবার ,তো কিসের বিভাজন।পরিবার নিয়ে হয় সমাজ,সমাজ নিয়ে শহর এইভাবে রাষ্ট্র সুতরাং মানুষের ভাবনায় যদি থাকে বিভেদ সর্বোচ্চ প্রভাব পড়ে রাষ্ট্র,দেশেও।
**আপনিও ছিলেন রাষ্ট্র নেতা এখনকার নেতাদের মধ্যে কি ভাবনার ফারাক পান?
সুভাষ-এ বিষয়ে মন্তব্য করা ঠিক নয় তবু সকলের প্রতি সম্মান রেখে বলবো দেশ কে এগিয়ে নিয়ে যাবার জন্য নিজের দল বা বিরোধী সকলের প্রতি শ্রদ্ধা রাখা খুব দরকার ।দেশের উন্নতিতে রাজনীতি কে প্রাধান্য না দেওয়া সব থেকে বেশি প্রয়োজন।সামগ্রিক উন্নতি যদি জনগণ উপলদ্ধি করতে পারে রাষ্ট্র নেতা হয়ে তার চেয়ে সেরা প্রাপ্তি আর কিই বা হতে পারে।
**নমস্কার জানাই।আপনাকে অনেক ধন্যবাদ ও প্রনাম নেবেন
সুভাষ-আপনাকেও যোগ্য সম্মান জানাই,নমস্কার।লক্ষ্য ঠিক করে এগিয়ে চলুন।গর্বের ভারতবর্ষ গড়তে আপনাদের সকলেরই ভূমিকা আছে।



Comments

Popular posts from this blog

পিয়ালি দাসের লেখা

পারমিতা রাহা হালদারের লেখা

বীরেন্দ্র নাথ মহাপাত্রের ধারাবাহিক উপন্যাস