আবদুস সাত্তার বিশ্বাসের ধারাবাহিক উপন্যাস

সুকন্যা

                   আবদুস সাত্তার বিশ্বাস

পর্ব-৪                     (পাঁচ)

        পৃষ্ঠা গুলোর ললাটে চুম্বন খেয়ে ফাইন জানলা দিয়ে বাইরে তাকিয়েছিল।বাইরে রাস্তায় স্নেহাকে দেখতে পেয়েছিল।খেলা করে পাড়া থেকে স্নেহা তখন বাড়ি ফিরছিল।হাতে তার স্কিপিং ছিল।গত সপ্তাহে ফাইন ওটা তাকে কিনে দিয়েছিল।তার আগের দিন ফাইনকে বলেছিল --- বাপি,আমাকে একটা লুলা কিনে দিবে।
        লুলা কি জিনিস ফাইন বুঝতে পেরেছিল না। না পেরে বলেছিল----কি?
       স্নেহা একই সুরে ফের বলেছিল----- আমাকে একটা  লুলা কিনে দিবে।
        ----- কি কিনে দেব?আশ্চর্য!সেবারও ফাইন বুঝতে পেরেছিল না।
      -----লুলা।
      -----লুলা কী?
      ------তোমার মুণ্ডু।ফাইন ঠিক বুঝতে পেরেছিল স্নেহা তার প্রতি বিরক্ত হয়েছে।
       ফাইন হেসে ফেলেছিল----- ওটা কি জিনিস না বলে দিলে বুঝব কি করে?
         -----তোমাকে বুঝতে হবেনা।তুমি একটা পাগল।তারপর সে রূপসীর দিকে তাকিয়ে বলেছিল---- মা,তুমি বলে দাও।এবং ফাইনকে বলেছিল----- তোমার বউয়ের মুখে শুনে নাও।
         ফাইন বলেছিল----- আমার বউ তোমার কে?
         -----মা।
         -----তাহলে বউ বলছ যে?
         ------বেশ করেছি। ঘর থেকে সে বেরিয়ে গিয়েছিল।যাওয়ার সময় বলেছিল---- যদি না এনেছ তাহলে বুঝতে পারবে।বলে ঘরে সে আর এক মুহূর্ত দাঁড়িয়েছিল না।
         ফাইন রূপসীকে জিজ্ঞেস করেছিল----লুলা কী জিনিস?
         -----সত্যি তুমি বুঝতে পারোনি?
         -----না।
         ------আমি তো ভেবেছি ,ঠাট্টা করছ।
         -----না।
          রূপসী তখন বলেছিল----- স্কিপিং কিনে দেওয়ার কথা বলছে।
          ------স্কিপিংকে লুলা বলে?
          ------হ‍্যাঁ।
         ফাইন হেসেছিল ------জানতাম না তো।আর জানবই বা কি করে বলো,একটা জিনিসের কত রকম নাম।
           -----তাছাড়া ওটা তো মেয়েদের খেলার জিনিস।পুরুষের তো নয় যে,নাম জানতেই হবে।
         -----সেটাও ঠিক।
        এরপর ফাইন স্কুল থেকে ফেরার পরই স্নেহা ব‍্যাগ দেখতে শুরু করেছিল।ফাইন তাকে জিজ্ঞেস করেছিল----- কি দেখছ?
          স্নেহা উত্তর না দিয়ে ব‍্যাগ দেখে মুখ ভার করে বলেছিল----- আমি কি আনতে বলেছিলাম আনো নি?
          ------তুমি কি আনতে বলেছিলে?
          -----আমি তোমাকে লুলা আনতে বলেছিলাম না?
          ফাইন জিভে কামড় দিয়েছিল-----সরি!ভুলে গেছি।
          স্নেহা শুনেছিল না।দৌড়ে এসে ফাইনকে কিল-ঘুষি মারতে শুরু করেছিল।মাথার চুল ধরে তার শক্তি ভর টানতে শুরু করেছিল----- বল,কিনে আনিসনি কেন?বল-----
        চুলে ফাইনের লেগেছিল।সে তখন সজোরে স্নেহার হাতটা ধরে ছাড়িয়ে দিয়েছিল।স্নেহা তাতে আরো রেগে গিয়ে এবার কামড়াতে শুরু করেছিল।
         ফাইনও স্নেহার প্রতি রেগে গিয়ে তাকে দু'চড় দিয়েছিল–--- এ কি!কামড়ানো কেন? তারপর কান ধরে বলেছিল----- আর কামড়াবি?
        স্নেহা কাঁদতে শুরু করেছিল..... রূপসী স্নেহাকে কোলে তুলে নিয়ে আদর করেছিল----- কাঁদে না, চুপো।তোমার বাবা ভাল না, পচা।আমি তোমাকে কিনে দেব।রূপসী ফাইনকে বলেছিল---- তুমিও হয়েছ যেমন।আব্দার নিয়ে কাছে গেল আর তুমি মেরে কাঁদালে।ভালবাসতে হয় কি করে  আজও শিখলে না।
         -----মেজাজ ভাল নেই।এখন বেশি বকাবে না বলে দিচ্ছি।ওদিকে নিয়ে গিয়ে চুপাও।
        -----তোমরা পুরুষ মানুষ তাই তোমাদের মেজাজ ভাল থাকেনা।মেজাজ সময় ক্ষেত্রে আমাদেরও তো খারাপ হয়।কই ,আমরা তো মেজাজ খারাপের দোহাই দিতে পারিনা।
         -----তুমি কি আমার সঙ্গে ঝামেলা করবে?
         ------তুমি মারলে কেন?
         -----বেশ করেছি।আমার কথা শুনবে না কেন?
        -----তোমার কবিতার খাতা গুলো দেখতে দেখতে আমি কবে পোড়াব।নাহলে আমরা মা-মেয়ে তোমার কাছে কোন দিন ভাল হতে পারব না।তুমি আমাদের ভালবাসবে না।ভালবাসবে কেন, কবিতাই যে তোমার সব।আচ্ছা, তুমি বিয়ে করেছিলে কেন?কবিতা নিয়ে থাকলেই তো পারতে।
         -----চুপ করবে?
         -----এখন তো চুপ করতে বলবেই।আসল কথা বলেছি যে।
         স্নেহার কান্না থেমে গিয়েছিল।রূপসীর কোল থেকে নেমে সিঁড়ি ঘরের কোণে সে হাঁড়ি পাতি খেলতে বসেছিল।পরে রূপসী টিফিন করে দিলে ফাইন খেয়ে বেরিয়েছিল।তখনই সে মনে মনে প্রতিজ্ঞা করেছিল, কাল যত কাজই থাকুক স্কিপিং সে আগে কিনে ব‍্যাগে ঢুকিয়ে রাখবে।কথাটা ডায়রিতে ফাইন নোটও করে নিয়েছিল।
          জানলা দিয়ে ফাইন স্নেহাকে দেখতে পাওয়ার পর দেওয়ালে ঝুলানো তার ছোট বেলার ছবিটার দিকে তাকিয়েছিল।ফাইনের যে ছবিটা দেওয়ালে ঝুলানো ছিল স্নেহার বয়সের ছবি ওটা।ওই বয়সের কথা তার তখন মনে ছিলনা। কিন্তু বড় হওয়া পর তার ঠাকুরমার মুখে শোনা কথা গুলো সব মনে ছিল।ছোট বেলায় ফাইন ভীষণ দুরন্ত আর একগুঁয়েমি ছিল।কারও কোন কথা শুনত না।যখন যেটা নেবে বলত না পাওয়া পর্যন্ত তার জ্বালাতনের শেষ ছিল না। তারজন‍্য সে জীবনে মারও খেয়েছে প্রচুর।তাকে মানুষ করতে না কি তার বাবা-মাকে হিমশিম খেতে হয়েছে প্রচুর।তাদের সন্তান নেওয়ার পরে ইচ্ছে থাকলেও তার জ্বালার জন্য তারা আর সন্তান নিতে সাহস পায়নি।সেই ছেলেও যদি ফাইনের মতো দুষ্ট হয়।না,তারা আর ছেলে নেবেনা।একটাই থাক।তাদের ইচ্ছে পরে ধীরে ধীরে নষ্ট হয়ে গিয়েছিল।ফাইনের তখন মনে হয়েছিল, তার ছেলেবেলার সব দোষ গুলো কি তাহলে তাদের স্নেহা পেয়েছে?নাহলে সে এত চঞ্চলা কেন?তার এত জ্বালাতন কেন?হবে হয়ত বা।বাবা-মায়ের দোষ গুণ গুলোই তো সন্তান পেয়ে থাকে।তার  ঠাকুমা তাকে আরো বলেছিল যে, ছোট বেলায় ফাইন ঝুঁকে ঝুঁকে হাঁটত।ফাইন এরপর তাকিয়ে দেখেছিল স্নেহার হাঁটা। স্নেহাও তো ঝুঁকে ঝুঁকে হাঁটছে।তারমানে তার ছোটবেলার সব বৈশিষ্ট্য গুলোই স্নেহার মধ্যে রয়েছে।শরীরের গঠন থেকে শুরু করে নাক,মুখের গঠন ও মাথার চুল সব কিছু।ভাবলে ফাইনের এখন খারাপ লাগে, এই স্নেহাকে একসময় সে তার রক্তের বলে স্বীকার করেছিল না।পরে অনেক জটিলতা সৃষ্টি হওয়ার পর যদিওবা স্বীকার করেছিল তার পরে তার পিতৃ স্নেহ পড়েছিল না।কোলে নিত না।কাছে ডাকত না।ভাল বাসত না।এক কথায় ,স্নেহা তার অনাদরেই ছিল।রূপসীর সঙ্গেও তার ভাল সম্পর্ক ছিল না।যেটুকু ছিল শুধু শরীরের।মনের নয়। ফাইনের চোখ দুটো তারপর সজল হয়েছিল।যে বাবা হয়ে মেয়ের কোন দিন খবর রাখেনি।অথচ এতটুকু মেয়ে হয়ে সে তার বাবার হাতের লেখা চিনতে পেরে ফেলে দেওয়া পৃষ্ঠা গুলো কুড়িয়ে এনে সযত্নে টেবিলের উপর রেখে দিয়েছে।এতটুকু মেয়ে তার এত খবর রাখে!যদি তার বাবার কাজে লাগে।এ যে তার সুকন্যা।এ যে তার সু লক্ষণা। ফাইন জীবনে তার প্রতি যে অবিচার করেছে তাতে তাকে হৃদয়হীন আর পাষণ্ড ছাড়া ভাবাই যায়না। ফাইন তারপর নিজে নিজের কান মলে মনে মনে প্রতিজ্ঞা করেছিল----- জীবনে যে ভুল করেছি প্রতিজ্ঞা করছি ওই ভুল আর করবনা।আজ থেকে খুব খুব ভালবাসব।নিজের চেয়ে বেশি ভালবাসব।
           রূপসী কাছে এসে ফাইনকে জিজ্ঞেস করেছিল---- চা করে আনব?খাবে?আর তখনই ফাইনের চোখের দিকে নজর পড়লে রূপসী তাকে বলেছিল------ এ কি!তুমি কাঁদছ?
         ------হ‍্যাঁ রূপসী,আজ আমি কাঁদছি।
         ------কিন্তু তুমি যে কাঁদো না।মানে কাঁদতে পারোনা।কান্না বিরোধী তোমার একটা কবিতাও আছে-----আমি একটু অন‍্য রকম, আলাদা----/সব মানুষ কাঁদে,আমি জানিনা কাঁদা।আর তুমি কাঁদছ!সে কি কথা!
          -----এতদিন আমি পাষাণ ছিলাম,রূপসী।আজ মানুষ হয়েছি বলে কাঁদছি।
          -----বুঝলাম না।
          ফাইন চোখ দুটো রগড়ে নিয়ে বলেছিল-----আজ থেকে তোমাদের দুই মা-মেয়েকে আমি খুব খুব ভালবাসব।তারপর বলেছিল-----রূপসী, তোমার সঙ্গে অতীতে অনেক নোংরা ব‍্যবহার করেছি।তুমি আমাকে ক্ষমা করে দাও।
          সঙ্গে সঙ্গে রূপসীর চোখ দুটোও ঝাপসা হয়ে উঠেছিল------ আজ হঠাৎ?
         ফাইন তখন জানলা দিয়ে রূপসীকে বাইরে তাকাতে বলেছিল।
         রূপসী বাইরে তাকিয়ে বলেছিল------ তাকালাম।
         -----তাকিয়ে কি দেখতে পাচ্ছ?
         ------স্নেহাকে দেখতে পাচ্ছি।গত সপ্তাহে তুমি যে স্কিপিংটা কিনে দিয়েছ ওটা হাতে করে মাথার ওপর ঘোরাতে ঘোরাতে আসছে।
          ফাইন বলেছিল----- আমি চিনতে পারিনি গো,স্নেহা আমার সুকন্যা।আমার সু লক্ষণা।তাকে দেখে আমার কত কথা মনে পড়ছে।আমার এই লেখাটা স্নেহাকে উৎসর্গ করব।
        স্নেহা তখন জানলার কাছে চলে এসেছিল। এসে জানলায় সে তার মা-বাবাকে দেখতে পেয়ে বলেছিল------তোমরা কি দেখছ গো?
            হাস‍্য মুখে রূপসী বলেছিল----- আমরা তোকে দেখছি।
          স্নেহা বিশ্বাস করেছিল না।সে বলেছিল-----মিথ্যা কথা।
          এবার ফাইন বলেছিল-----মিথ্যা কথা নয়,স্নেহা।আমরা সত্যি সত্যি তোমাকে দেখছি। তারপর ফাইন তাকে জিজ্ঞেস করেছিল-----স্কিপিং খেলতে ভাল লাগছে?নরম গলায় বলেছিল।
       স্নেহা এক কথায় বলেছিল-----হ‍্যাঁ।
       ফাইন বলেছিল-----খুব ভাল।তারপর বলেছিল-----শুধু স্কিপিং খেললেই হবেনা। পড়াশোনাও ভাল করে করতে হবে।
       স্নেহা এরপর ঘরে এলে পরে ফাইন তাকে কোলে তুলে নিয়ে চুমো খেয়েছিল---- তুমি খুব ভাল মেয়ে।তুমি আমার লক্ষ্মী মেয়ে।তারপর কোল থেকে নামিয়ে তার মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে দিতে বলেছিল---- তোমার জীবনে মঙ্গল হোক। তুমি বেঁচে থাকো।দীর্ঘ জীবি হও ।.... উপর্যুপরি আশীর্বাদ করেছিল।
        স্নেহা চুপ করে দাঁড়িয়ে আশীর্বাদ গ্রহণ করেছিল।তারপর বলেছিল------ হনুমান দেখলাম!হনুমান দেখে যে সে আনন্দ পেয়েছিল তার বলার ধরন দেখে ফাইন বুঝতে পেরেছিল। জিজ্ঞেস করেছিল-----কোথায়?
        ------ হানিফাদের ছাদে।
        -----তাই?
       -------হ‍্যাঁ।
        -----হনুমান দেখতে কী রকম?
       ------মুখটা কালো আর এই বড় লেজ।দুই হাত দুই দিকে প্রসারিত করে স্নেহা দেখিয়েছিল।
         -----বা:!তুমি তাহলে সত্যি সত্যি হনুমান দেখেছ।আচ্ছা স্নেহা,হনুমানের ইংরেজি কি বলো তো।
         স্নেহা সঙ্গে সঙ্গে বলে দিয়েছিল-----Meclofenamate ।
          ফাইন স্নেহার কপালে একটা চুমো খেয়েছিল-----Thank you ।বলেছিল-----এটা কঠিন।সহজ হল-----Prebytis ।
        স্নেহা বলেছিল------ আমার কাছে ওটাই সহজ।
        রূপসী বলেছিল------আসলে ওটা ওর মুখস্থ হয়ে আছে তো।তাই ওটাই ওর কাছে সহজ।
         স্নেহার এবার মনে পড়েছিল সেই পৃষ্ঠাগুলোর কথা।পৃষ্ঠা গুলো সে টেবিলের উপর খুঁজেছিল।দেখতে পেয়েছিল না।যার দরুন রূপসীকে সে জিজ্ঞেস করেছিল----- মা,পৃষ্ঠা গুলো তুমি ফেলে দিয়েছ?
       -----ফেলব কেন,তোর বাবাকে দিয়েছি।
       সে এবার ফাইনকে জিজ্ঞেস করেছিল----- দিয়েছে গো?
       হাস‍্য মুখে ফাইন বলেছিল----- হ‍্যাঁ মা,দিয়েছে।দেখবে নাকি?ফাইন আলমারি খুলে পৃষ্ঠা গুলো বের করে দেখিয়েছিল-----একটু আগে ঢুকিয়ে রাখলাম।
        -----তুমি বলে পৃষ্ঠা গুলো ফেলে দিয়েছিলে,মা বলছিল।
        -----হ‍্যাঁ, মা।তবে তুমি কুড়িয়ে এনে রেখে খুব ভাল করেছ।খুব খুব ভাল করেছ।তুমি খুব ভাল।
         -----ফেলে দিয়েছিলে কেন?
         ------ভাল লাগছিল না বলে।
       স্নেহা তখন বলেছিল -----আর একটু হলেই কাগজ কুড়ানে ছেলেটা কুড়িয়ে নিত।
        -----তুমি আমার লক্ষ্মী মেয়ে।তার ডান গালটায় আলতো স্পর্শ করেছিল।
         ক্লাবের লাইব্রেরিতে ফাইনের সেদিন আর যাওয়া হয়েছিল না।দৈনিক রূপসী তাকে নিয়ে পড়াতে বসলেও সেদিন কিন্তু ফাইন বসেছিল। স্নেহা ফাইনের কাছে ভালই পড়েছিল।তার পড়া দেখে ফাইন যেটা ভেবেছিল,এই বয়সে তাদের অক্ষর জ্ঞানই হয়েছিল না।কিন্তু স্নেহা কত সুন্দর পড়তে পারল।বাংলা-ইংরেজি-অংক।সেদিক থেকে ফাইন এই প্রজন্মের ছেলেমেয়েদের বেশি মেধাবান্ ভেবেছিল।
          সফিকুল কামাল সেদিন ক্লাব লাইব্রেরি থেকে দেরি করে বাড়ি ফিরেছিল।ফাইন আসবে আসবে করে বসেছিল।কিন্তু ফাইন এসেছিল না।পরের দিন এলে সে না আসার কারণ জিজ্ঞেস করবে।[ক্রমশ]


Comments

Popular posts from this blog

পিয়ালি দাসের লেখা

পারমিতা রাহা হালদারের লেখা

বীরেন্দ্র নাথ মহাপাত্রের ধারাবাহিক উপন্যাস