nbt গৌরব সেনের লেখা





শ্বশান (প্রথম পর্ব)
nbt গৌরব সেন

Nbt Gourab Sen এ্যাকাউন্টের পাশে আর সবুজবাতি জ্বলবেনা।অচেনা বন্ধুগুলো হয়তো খুঁজবে ফটো আপলোড করেনা কেন?কবিতা তো আর লেখেনা?কোনো লাইক কমেন্ট তো করেনা!নিশ্চয় ফেক আইডি আনফ্রেন্ড করে দেওয়াই ভালো।
    চেনা গুলো হয়তো কষ্ট পাবে,কারো সাথে আম চুরি নারকেল চুরির স্মৃতী,কারো সাথে স্কুলে যাবার স্মৃতী,মারামারি,ভাব ভালোবাসা,আরও কতরকম ভালো কাজ খারাপ কাজ এত গুলো দিন একসাথে কাটানো কষ্ট তো পাবেই,আমার স্মৃতীর উদ্দেশ্যে যারা যার গ্যালারী তে থাকা আমার সাথে তোলা সেলফি ফেসবুকে পোস্ট করবে,মিস ইউ ভাই,তুই জিবীত আমাদের মধ্যে,রাতে একটু মাল খাবে দিয়ে গার্ল ফ্রেন্ড কে ফোন করে বলবে আমার কথা,ও বলায় হয়নি আমার ডেড বডি আসলে সে কি কান্না কাদবে,ভাবায় যাবেনা।সকালে উঠে মন্ত্রবাক্য যে চলে যাওয়ার চলেই গেলো।বাশ!নটাঙ্কি কমপ্লিট।
 #ultimate চিতাতেই সব শেষ।

(দ্বিতীয় পর্ব)

  আমি মরলে কে হাসবে কে কাঁদবে,কেমন ভাবে কাঁদবে, আদৌ কাঁদছে কি এসব নিয়ে কথা বলার অধিকার সত্যিই আমাই কেউ দেয়নি,গনতান্ত্রিক দেশে নিজস্ব ভঙ্গীমাতে কাঁদতেই পারে।ঠিক তেমনই আমি কি লিখবো,কেমন ভাবে লিখবো পুরোপুরি ভাবে আমার ব্যাপার অন্তত যতক্ষন আমার  মৃত্যুর শংসাপত্র হাত অবদি না আসছে,তাই ভাবি আমি এত ভালোবাসা রাখবো কোথায়?কত কান্না কাট্টি আমার ডেড বডি নিয়ে,কত দামী রজনীগন্ধা আমার খাটুলিতে শুধু ভাবছিলাম বেচে যখন ছিলাম তখন তো একটা বিড়ি চাইলেই মুখ গোমড়া।যাইহোক অনেক বড় লরি করা হয়েছে বডি টাও তুলে দেওয়া হয়েছে,এবার যাবার পালা,নাটকীয় #দ্বিতীয়_পর্ব শুরু,"ভাই টাকা গুলো তুলেছিস মাল কেনার,এই তোর দাইত্ব্য কিন্তু মাল টা কেনার,পাগলা বিড়ি নিয়েছিস বেশী করে,দুটো তেরেঙ্গাও নিস আমার জন্য।"
"তোরা কিন্তু সাবধানে যাস আমি যেতে পারলাম না জানিস তো তোর কাকিমা ভয় পাই একা" জন্ম থেকেই যেন রাতে বৌয়ের হাগু পেলে ছুচুও করে দেয়,"টাকা পয়সা লাগলে বলিস,আমি আছি তো"এদিকে আগেই পকেট খালি করে এসেছে যদি কেউ চাই।যাই হোক শুরু হলো লড়ি চালানো,প্রতিযোগিতাটাও শুরু "বলো হরি,হরি বোল" কার গলায় কত্ত জোড়।অনেকটা রাস্ত নবদ্বীপ তাই কান্না কান্না খেলাটা শেষ,ব্যাস্ত হয়ে উঠলো সবাই লড়ির ডালায় রসের গল্পে।কেউ লক্ষ্য করলো না ধূপ টা নিভে গেছে।লড়ি ছুটে চলেছে একটা নিথর দেহ পোড়াতে #শ্বশানের দিকে।
      জানতাম #চিতাতেই_সব_শেষ, ভুল প্রমানিত হোলাম,শেষতো অনেক আগেই হয়ে গেছে যখন আমার শ্বাস নেওয়া বন্ধ হয়ে গেছে,যখন আমার দরকার সবার কাছে ফুরিয়ে গেছে।

(শেষ পর্ব)

অবশেষে লড়িটা পৌছোলো,উৎসবমুখী লড়ির ভীড় নামতে শুরু করলো সাথে কোনো রকমে বলো হরি হরি বোল করে নামানো হলো বডিটা।কি জীবন বাব্বা,ট্রেনের টিকিটের জন্য লাইন,সিনেমার টিকিটের জন্য লাইন,যে কটা মেয়ের সাথে লাইন মেরেছি সে কটার পেছনেও লম্বা লাইন ছিলো,শান্তিতে পুরবো তাও লাইন।ফেলে রাখা হলো একটা ঘরে,আশে পাশে আমার মতো অনেক কটা বডি,কোনো রকমে বডি টা ফেলে  অবঞ্জাতে উর্চ্ছিষ্ট ধূপটা ধরিয়ে সবাই পালালো পেট পূজোর জন্য।বড় একা হয়ে গেলাম আশে পাশে সব অচেনা,খুব ভয় লাগছিলো হয়তো এটাই #শেষ_পর্ব।মায়ের কথা মনে পড়ছিলো,কি করছে মা?খুব কাদছে কি?কে দেখবে মা কে?নিজেকে আশ্বস্ত করলাম মায়ের তো বয়স হয়েছে কিন্তু 'ও'......?আমার হাত ধরে চোখ বুজে এসেছে আমার গরীবি ঘরে,যা চেয়েছে তাই দিয়েছি হয়তো দেওয়ার চেষ্ঠা করেছি।কিন্তু এখন কে দেবে?ও তো সবাই কে ছেড়ে চলে এসেছে,আপোন বলতে তো শুধু আমি?ওকে ভালোবাসবে কে?সাত পাচ ভাবতে ভাবতে লক্ষ্য করলাম নতুন লাশের ভীড়,কানাঘুষো শুনলাম "আমদের বডিটা উঠবে",আমাকে চ্যাংদোলা করে তুলে গঙ্গার ধারে নিয়ে গিয়ে কোনোরকমে স্নান করিয়ে গায়ে ঘি মাখালো,আৎকে উঠলাম চেঁচিয়ে উঠলাম 'মা' বোলে।কেউ শুনতে পেলো না।আমার যে আগুনে খুব ভয়,বুঝতেই পারছিলাম আমাকে তোলা হবে চুল্লীতে।বুকের ভেতরটা চূড়মার হয়ে গেলো কান্নায়,স্মৃতী গুলো ভাসছিলো চোখের সামনে,জোড়ে বলতে ইচ্ছা করছিলো পুড়াস নে ওটা আমার দেহ,আমি থাকতে চাই।হঠাৎ তখন কে যেন মুখে ঠেসে দিলো আগুন,আমি আবার ভয়ে চেঁচিয়ে উঠলাম কেউ শুনতে পেলোনা।আরেকবার "বলো হরি হরি বোল"।হঠাৎ চারিদিকে গরম অনুভব করলাম,আগুন অনুভব করলাম খুব কষ্ট হচ্ছিলো,আষ্ঠে পিষ্ঠে আমাকে অগ্নি শিখা জাপটে ধরলো,অনুভব করছিলাম মৃত্যু কে।শুধু চাইছিলাম বাঁচতে,একবার মা কে দেখতে,একবার 'ও'কে দেখতে।অস্পষ্ঠ হয়ে আসছিলো সব কিছু,অন্ধকার নেমে আসছিলো চোখের সামনে,পুরো পৃথিবী যেন আমাকে বিদায় জানাচ্ছে শুধু উপলব্ধি করার চেষ্ঠায়  "সুখ,শান্তি #শ্বশানে...



Comments

Popular posts from this blog

পিয়ালি দাসের লেখা

পারমিতা রাহা হালদারের লেখা

বীরেন্দ্র নাথ মহাপাত্রের ধারাবাহিক উপন্যাস